যেভাবে আদায় করবেন শবে বরাতের নামাজ

95

মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত রাত পবিত্র শবে বরাতের রাত।এ রাতে আল্লাহ মানবজাতির জন্য তার অসীম রহমতের দরজা খুলে দেন।শবে বরাত শব্দটি ফারসি। শব মানে রাত, আর বরাত মানে মুক্তি। সেই জন্য শবে বরাত হচ্ছে মুক্তির রজনী।

এই পবিত্র রাতে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করার সুযোগ ঘটে। বছর ঘুরে এই পবিত্র রাত আসে সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে।

ইসলাম ধর্মে এই রাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত। পবিত্র এই রাতে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করলে, আল্লাহর কাছে নিজের পাপ-গুনাহ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন এবং অনুতপ্ত বান্দাকে গুনাহ থেকে মুক্তি দিয়ে তাকে মাফ করে দেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সা.) এই রাতে নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকতে মুসলমানদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। শবে বরাত সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) আমাকে বলেছেন, আপনি আপনার উম্মতদের জানিয়ে দিন, তারা যেন শবে বরাতের রাতকে জীবিত রাখে।’ অর্থাৎ তারা যেন ইবাদতের মধ্য দিয়ে রাতটি কাটিয়ে দেয়।

মহিমান্বিত এই রজনীতে ধর্মপ্রাণ মুসলমান গণরা জীবনের সব ভুল-ভ্রান্তি, পাপ কাজের জন্য গভীর অনুশোচনায় মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন মজিদ তিলাওয়াত, জিকির-আজকার মধ্যদিয়ে এই পবিত্র রাত কাটিয়ে প্রার্থনা করেন ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ কাজ পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য।

মরহুম আত্মীয়-স্বজনসহ যারা চিরবিদায় নিয়েছেন মুসলিম নারী-পুরুষের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতেও সন্ধ্যার পর থেকেই মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থেকে শেষ রাতে সেহরি খেয়ে পরদিন নফল রোজা রাখেন মুসলিমগণ ।

শাবান মাসের পরই আসে পবিত্র মাহে রমজান। তাই শবে বরাত মুসলমানদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। রমজান মাসের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি শবেবরাতের মধ্য দিয়েই শুরু হয় ।

নামাজের নিয়ত আরবীতে :

“নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাক‘আতাই ছালাতিল লাইলাতিল বারাতি নাফলি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল্ কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার”।

বাংলায় নিয়ত:- “ আমি ক্বেবলামুখী হয়ে আল্লাহ তা’য়ালার উদ্দেশ্যে শবে বরাতের দুই ‘রাক’আত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবার”।

শবেবরাতের নামাজ :

শবে বরাতের নামাজ দু’রাকাত করে যত বেশি পড়া যায় তত বেশি ছওয়াব। নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী বা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া অধিক ছওয়াবের কাজ। এভাবে কমপক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। এর বেশি যত রাকাত আদায় করা যায় ততই উত্তম।

প্রতি ৪ রাকাত পর পর কিছু তাসবিহ্-তাহলীল আদায় করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করা অতি উত্তম। এভাবে সারা রাত নামাজ আদায় করা যেতে পারে।

পবিত্র শবেবরাতে এভাবে নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যেতে পারে।
তাই আসুন এই পবিত্র রাতে আমরা বেশি বেশি করে নফল নামাজ আদায় করি।অতীতে করা সকল ভুল এবং পাপ কাজের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।


অনলাইন আপডেটঃ ৯:১০ পিএম , মার্চ ২৮, ২০২১
আরসিএন২৪বিডি.কম