গত শুক্রবার রাজশাহীর কাটাখালীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ গুলি আনার পর শনিবার রাত ১২ টার দিকে পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণ জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

উপজেলার বড় মজিদপুরে ফুল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের জন্য ৫টি কবরে পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মেকার ভুট্টুর পরিবারের জন্য ৩টি, রাঙ্গামাটিতে ১টি, রাজারামপুরে ৪টি, দুরামিঠিপুরে ১টি কবরসহ ১৭টি কবরে মরদেহ গুলি দাফন করা হয়।

দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১০জনই রামনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকি ৭ জনের তিনজন পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রজাপাড়ার, একজন থানাপাড়ার, দুইজন রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়ার এবং আরেকজন মিঠিপুর ইউনিয়নের দূরামিঠিপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা।

এর আগে শহীদ মিনার মাঠ থেকে জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে নেওয়া হলে সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন- রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় মজিদপুর গ্রামের পার্টস ব্যবসায়ী ফুল মিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাজমা (৩৫), মেয়ে সাবিয়া (৪), মেয়ে সুমাইয়া (৮), ছেলে ফয়সাল (১৩),একই ইউনিয়নের বড় রাজারামপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিন (৩৬), তার স্ত্রী সামছুন্নাহার (২৮), ছেলে সাজিদ (৭), মেয়ে সাফা (৪), সামছুন্নাহারের বড় বোন কামরুন্নাহার বেগম (৪১), রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামের মোখলেছার (৪৫), তার স্ত্রী পারভীন (৩৫), মিঠিপুর ইউনিয়নের দূরামিঠিপুর দক্ষিণপাড়ার শহিদুল মিয়া (৪৫), পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রজাপাড়ার তাজুল করিম ভুট্টু (৪৫), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৩৫), ছেলে ইয়াসিন (১৪) এবং থানাপাড়ার মাইক্রোবাস চালক হানিফ হোসেন পচা (২৮)।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেশ চন্দ্র জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জানাজা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৬ মার্চ) দুপুরে রাজশাহীর কাটাখালী সড়কের কাছে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগে যায়। এসময়ে মাইক্রোবাসে থাকা ১৮ জনের মধ্যে চালক হানিফ হোসেনসহ ১৭ জন আগুনে পুড়ে মারা যান। এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যান পাভেল নামে এক তরুণ। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। তাদের বাড়ি রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামে।

অনলাইন আপডেট : ৮:৫৯ পিএম , মার্চ ২৮, ২০২১
আরসিএন ২৪বিডি.কম /