লালমনিরহাটে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি

56

ফের লালমনিরহাটে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি তৎপর হয়ে উঠেছে। নব্য জেএমবি দুই জনকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ডিএমপির কাউন্টার টেরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রইম (সিটিটিসি) ইউনিট গ্রেফতার করে।

এদের মধ্যে জঙ্গি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি লালমনিরহাট শহরে রেলওয়ে বাবু পাড়ায়। তার বাবা রেলওয়ে বাবু পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজিম মোঃ হান্নান। জঙ্গি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডেভিট কিলার নব্য সামরিক শাখার শক্তিশালী বোমা তৈরিতে পারদর্শী। সে একজন প্রশিক্ষিত দূর্ধর্ষ সামরিক শাখার মর্যাদাপূর্ণ লিডার । অন্যজন মোঃ কাওসার হোসেন ওরফে মেজর ওসামা। জঙ্গি আস্তানা হতে আব্দুল্লাহ আলম মামুনকে আটকের পর রেলওয়ে বাবু পাড়ার প্রতিবেশীরা হতভম্ব। বাবা সামান্য মুসজিদের মুযাজিম। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার জঙ্গি তৎপরতায় ও পুলিশের উপর রড় ধরণের হামলার পরিকল্পনায় নক্সা করায় জড়িত থাকায় লালমনিরহাটে জেএমবি সংগঠনের মূল উৎপাটন হয়নি বলে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসীগণকে ভাবিয়ে তুলেছে। এদিকে গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল যে, স্থানীয় আওয়ামীলীগের লিডারদের হত্যা পরিকল্পনা করছিল জেএমবি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঈদুল ফেতরের সময় এই
জঙ্গি লিডার আব্দুল্লাহ আলম মামুন তার কয়েকজন সঙ্গি নিয়ে এসেছিল। তারা
বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীল সংবাদ কর্মী ও
সাহিত্যিকের বাড়ি রেকি করে গিয়েছে। এখন এই খবর শহরের মানুষের মুখে
মুখে। এই সময় জঙ্গি আব্দুল্লাহ আল মামুন ছাত্রলীগের এক প্রভাবশালী লিডারের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ছিল। তাকে তার সাথে সার্বক্ষণিক দেখা গিয়ে ছিল। অন্য সদস্যের কেউ চিনেনা। তাদের সাথে কারো পরিচয় করিয়ে দেয়নি। জঙ্গি আব্দুল্লাহ ছোট বেলা হতে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে আসছিল। সে
এতোদিন গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কোন একটি মাদ্রাসায় পড়া শুনা করেছিল। ৩/৪ বছর পূর্বে জেলা শহরের নেছারিয়া মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ২০১৮ সালে করোনা শুরুর পূর্বে নেছারিয়া মাদ্রাসা হতে দাখিল পাশ করে। বর্তমানে নেছারিয়া মাদ্রাসায় ফাজিলে অধ্যায়নরত। তার বাবা রেলওয়ে বাবুপাড়া মসজিদেও মুয়াজিম মোঃ হান্নান জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার জামাতা নারায়নগঞ্জের পাথরুকি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোঃ এরশাদ উল্ল্যাহ তাকে মসজিদে মুয়াজিম পদে চাকুরি করতে নিয়ে যায়। আড়াই হাজার থানার সমাজ বাজার জামে মসজিদের মুয়াজিমের কাজ দেয়। কিভাবে সে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িয়ে গেল তারা কিছুই জানেনা বলে জানান।
লালমনিরহাটে জঙ্গি সংযোগ ও অপতৎপরতা খুব গভীরে। এই জেলা শহরের বানভাষা মোড়ের দূর্ধর্ষ জঙ্গি মোফাবেরুলকে দিনাজপুরের পুরোহিত হত্যার ঘটনার পর গ্রামবাসীরা পুলিশের সহায়তায় একে ফোরটি রাইফেলসহ আটক করে। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে বলে তার পরিবার জানান। কিন্তু কোথায় কোন কারাগারে য়েছে তারা জানাতে পারেনি। জঙ্গি মোসাবেরুলেল পরিবার জানান, যে বন্ধু তাকে জঙ্গি সংগঠনে নিয়ে গেল সে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বাবা পাটগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইমাম। অর্থেও জোওে সেই জঙ্গি সম্পৃক্ততাহতে বেঁচে গেছে। মূলহোতাদের রক্ষা করে জঙ্গি নির্র্মল কখনো সম্ভব নয়। এদিকে একটি সূত্রে জানা গেছে, নেছারিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মসলেম উদ্দিনের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ওলিপুর থানার সাতদারগা গ্রামে। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গাইবান্ধার কোন মাদ্রাসায় পড়ার সময় জঙ্গি সংগঠনের কয়েক জন সহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়। পরে বহুদিন কারাগারে ছিল। কুড়িগ্রামের মাদ্রাসায় তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। সেখানে টিকতে না পেরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করে লালমনিরহাট শহরের নেছারিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেয়। এই নিয়োগে একজন মহিলা এমপি সরাসরি সহায়তা করে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। নেছারিয়া মাদ্রাসার জনৈক শিক্ষক অভিযোগের সুরে বলেন, আমি ছাত্রাবস্থা হতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে নির্যাতন নিপীড়ন সইতে হয়েছে। আমরা এখন আওয়ামীলীগ নই পাত্তাপাইনা। জেএমবি স¤পৃত্ততা মাওলানা জামাত নেতা এখন বড় আওয়ামীলীগার। মাদ্রাসায় যোগদানের পর পরেই মাদ্রাসার পিছনে জমি কিনে বহৃতল বাড়ি নির্মাম করেছে। এই অধ্যক্ষ যোগদানের পর জেএমবি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন নেছারিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। এই মাদ্রাসায় জেএমবির শাকা রয়েছে বলে জানান। তারা গোপনে তৎপরতা চালায়। দরিদ্র ছেলে মেয়েদের টার্গেট করে আর্থিক সহায়তা দেয়। জেএমবি সংগঠনের সাথে একটি জামাত পরিবার নিয়ন্ত্রিত কাতার ভিত্তিক চেরিটি মাদ্রাসার সম্পৃত্ততা রয়েছে। এখন ঐ মাদ্রাসার নাম পাল্টিয়ে অন্য নাম রাখা হয়েছে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এই মাদ্রাসার সাথে জামাত নেতা
যুদ্ধাপরাধী কামরুজ্জামান , আজাহার ও মোদাহিদুলদের সম্পৃক্ততা ছিল। তাদের দেয়া কোটি কোটি টাকা কাতার চেরিটির নামে এখানে নিয়ে এসে জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহার করা হতো। জেএমবি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতারের পর নড়ে চরে বসেছে পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এদিকে মোগলহাট সীমান্তে ধরলা নদীর দূর্গম দ্বীপচরে জারিধলায় উগ্রমৌলবাদী সংগঠনের তৎপরাতা দেখা যায়। চরটি দূর্গম হওয়ায় ভারত – বাংলাদেশ কোন দেশের সেখানে নেতৃত্ব নেই। কাটাতারের বাহিরে চরটি। আবার বাংলাদেশ সীমান্ত হতে নিকটে হলের ধরলা নদী পাড় হয়ে যেতে হয়। রসখানে একটি মসজিদকে ঘিরে হেফজখানার আড়ালে এই অপতৎপরতা চলছে।
হেফজখানাটি ভারতের চওে হলেও সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকের দরিদ্র সন্তানেরা পড়াশুনা করে আসেছে। সেখানে লকডাউনের ভিতরে ইঠতি বয়সের হুজুরদেও নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে দেখা যায়।

আমাদের করোনাবিষয়ক ওয়েবসাইড:coronavirus.rcn24bd.com
আমাদের ইংলিশ ওয়েবসাইড :uk.rcn24bd.com

  • আমাদের সকল নিউজ :RCN24bd.com
  • ১৩ জুলাই, ২০২১ (মঙ্গলবার)
  • আরসিএন ২৪বিডি ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here