রংপুর : রংপুরে “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা” নামক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আজ (৯ জুন) রংপুর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় বসবাসরত বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধগাঁথা, যুদ্ধের বর্ণনা ও ইতিহাস নিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক সংকলিত ও প্রকাশিত “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা” নামক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অসংখ্য সদস্য শহীদ হয়েছেন, যাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের অনেকের কাছেই অজানা। স্বাধীনতা পরবর্তী জীবিত অনেক পুলিশ সদস্যের বীরোচিত ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান আমরা তাদের নিকট থেকে জেনেছি। বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকলেই বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন, অনেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকে নিভৃত জীবনযাপন করছেন, ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলি হারিয়ে যেতে বসেছে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের এই স্মৃতিগুলি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভবের প্রেক্ষাপটে রংপুর মহানগরীতে বসবাসরত বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধের আত্মস্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পুলিশ কমিশনার মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদের সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় বসবাসরত বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন স্মৃতির বর্ণনা ও ইতিহাস লিখিতভাবে তাঁদের নিকট থেকে গ্রহণ করে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ নামক গ্রন্থ প্রকাশ হয় এবং একইসাথে তাঁদের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবদান গর্বের ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষণের নিমিত্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যসমূহ ডকুমেন্ট আকারে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে প্রেরণ করা হবে।

স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধকারী বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও কালজয়ী অবদান সর্বজনবিদিত। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের নির্ভীক ও নিঃশঙ্কচিত্ত বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের অনন্য কীর্তির স্বীকৃতি হলো ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশের ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রাপ্তি। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের অনেক সদস্যও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব ও বীরত্বপূর্ণ কর্মের জন্য নানা বীরত্বসূচক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদের গৌরবময় মহান স্বাধীনতার ইতিহাস।

রংপুরে “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

উল্লেখ্য যে, পুলিশ সপ্তাহ ২০২০ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ৯ জানুয়ারি ২০২০ সালে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাগণের সাথে আইজিপি সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধগাঁথা, যুদ্ধকালীন কর্মকান্ড, স্মৃতিসমূহ ও ইতিহাস সংগ্রহপূর্বক বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষণের প্রস্তাব করেন।

আইজিপি প্রস্তাবটি লিখিতভাবে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করলে পরবর্তীতে পুলিশ কমিশনার মহোদয় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের স্মারক নং- ১৬০ (স:দ:); ১২ জানুয়ারি ২০২০ সালে মোতাবেক পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বর্ণিত প্রস্তাব প্রেরণ করেন।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল ওয়াহাব ভূঞা। সভাপতিত্ব করেন রংপুর মেট্রোপলিটন এর পুলিশ কমিশনার মোঃ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বিপিএম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম (বার),সভাপতি প্রেসক্লাব রংপুর, সভাপতি রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুর, সভাপতি ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রংপুর, ২২ জন বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা (যাদের বক্তব্যে সমৃদ্ধ হয়েছে বইটি) ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদুল করিম পিপিএম-সেবা, সকল উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এবং অন্যান্য পুলিশ অফিসারবৃন্দ।

"গুগল নিউজ এ রংপুর ক্রাইম নিউজের সর্বশেষ খবর পড়তে ক্লিক করুন"
গুগল নিউজ এ রংপুর ক্রাইম নিউজের সর্বশেষ খবর পড়তে ক্লিক করুন।

আরসিএন২৪বিডি.কম / ৯ জুন ২০২১
এ এফ