ফেসবুকে বন্ধুত্ব পরে পার্সেল দেয়ার নামে প্রতারণা: গ্রেফতার ৪ বিদেশি

34

ঢাকা : বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চার বিদেশি (নাইজেরিয়ান ও ঘানা) নাগরিককে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি টিম।

আটককৃতরা খেলোয়াড় ও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে গত ৮ বছর আগে মাত্র ৩০ দিনের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

তবে এরপর তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে ফেসবুকে বিভিন্ন প্রতারণা চালিয়ে যেতে থাকেন।
সিআইডি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর দক্ষিণখানের কাওলা ও বসুন্ধরা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব ফরহান এর নেতৃত্বে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি বিশেষ টিম গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি ল্যাপটপ, বেশ কিছু সিম এবং ছয়টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের হাজির করে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সিআইডি।

প্রতারণার অভিযোগে আটক চারজনের মধ্যে নাইজেরিয়ান দুই নাগরিক হলেন- মরাে মহাম্মদ, মরিসনও এবং ঘানার দুই নাগরিক সিসম ও এন্থনী।

এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৬টি ল্যাপটপ, বেশকিছু সিম এবং ৬টি বিভিন্ন মডেলের মােবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফেসবুক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চার নাইজেরিয়া ও ঘানার নাগরিককে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব ফরহানের নেতৃত্বে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি বিশেষ টিম রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন কাউলা ও ভাটারা এলাকা থেকে আটক করে। .প্রতারণার শিকার একজন ভিকটিমের অভিযােগের সূত্র ধরে সিআইডি তাদের আটক করেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আটকদের মধ্যে আট বছর আগে খেলোয়াড় হিসেবে আসা মরাে মহাম্মদ, মরিসনও রয়েছেন। বাকি দুই ঘানার নাগরিক সিসম ও এন্থনী এসেছিলেন এক বছরের স্টুডেন্ট ভিসায়। তাদের কেউই ভিসার মেয়াদ বাড়াননি।

সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, আটক আসামিরা অভিনব কায়দায় সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করেন। বন্ধুত্বের একপর্যায়ে একটি তথাকথিত মেসেঞ্জার আইডি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসহ পার্সেল উপহার পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এবং পরবর্তীতে মেসেঞ্জারে এসব মূল্যবান সামগ্রী এয়ারলাইন বুকিংয়ের ডকুমেন্ট পাঠায়।


এরপর এসব গিফট বক্সে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে বলে তারা ভিকটিমকে অবহিত করে এবং তা কাস্টমস থেকে রিসিভ করতে বলেন। এ সময় তাদের অন্য সহযােগীদের মাধ্যমে কাস্টমস কমিশনার পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে মূল্যবান গিফটটি গ্রহণসহ শুল্ক বাবদ মােটা অংকের টাকা কয়েকটি ব্যাংক একাউন্টে পরিশােধের জন্য চাপ দেয়।

গিফটটি রিসিভ না করলে আইনি জটিলতার ভয়ও দেখায়। ফলশ্রুতিতে ভিকটিম তাদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে মােট ৫৫ হাজার টাকা জমা দেয়।

একইভাবে আসামিরা পরস্পর যােগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে সারাদেশে অসংখ্য ভিকটিমের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা গত কয়েক মাসের মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে মর্মে সিআইডি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হয়েছে। আটক বিদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে এ ধরনের প্রতারণা করে এলেও এদেশে তাদের অবস্থানের বৈধ কোনো কাগজপত্র এবং পাসপাের্ট প্রদর্শন করতে পারে নাই।

সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, প্রথমত তারা ট্যুরিস্ট, খেলােয়াড়, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু এজেন্টের সহায়তায় এ ধরনের প্রতারণা করেন।

প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক একাউন্টগুলাে সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধানে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে জড়িত এদেশীয় সহযােগীদের আইনের আওতায় আনতে সিআইডি কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে স্বল্পমেয়াদি ভিসায় আসা আফ্রিকানদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধ চক্রে জড়িত এমন চক্রে প্রতারণার শিকারদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও এ বছর তারা কী করে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন তা, খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে সিআইডি এসবির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কারণ ইমিগ্রেশন বিভাগ এসবির অধীনে।

আরসিএন ২৪বিডি.কম/ ২৬ আগস্ট ২০২০
আপডেট সময়: ৩:৪৫পিএম / জিএমএম