করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এর সাথে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ ও সঙ্গে ১-১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখতে দেশের বিভিন্ন জেলার নিচু এলাকায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের উপসচিব কাজী তাসমীন আরা আজমিরী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উপকূলীয় জেলাগুলোর প্রায় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন অপসারণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার যাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছিল রাতে ঝড় আসেনি বলে তাদের অনেকে বুধবার সকালে বাড়ি চলে যায়। তাদেরকে আবার আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলমান আছে।’

একদিন আগেই গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেছিলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে একসঙ্গে ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ জন মানুষকে আশ্রয় দেয়া দেয়া সম্ভব। তবে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে। সেজন্য ২০ তেকে ২২ লাখ লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

এর আগে গত বছর ঘূর্ণিঝড় ফণীর সময় ১৮ লাখ ও বুলবুলের সময় ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল সেসময়।

এদিকে বুধবার আবহাওয়া অধিদফতরের সবশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে আগের ৬ নম্বর বিপদ সংকেত সরিয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর আগে সকাল ৬টা থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়।

এছাড়া সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর এই মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ওইসময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশের উপকূলের ৩৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ঢুকে পড়েছে বলেও আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ বর্তমান অবস্থান থেকে আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার (২০ মে) বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সুন্দরবনের কাছে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানা গেছে। ওইসময় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ।

ঔই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
আরসিএন ২৪ বিডি.কম/২০মে ২০২০