ওয়াহিদা খানম হামলার ঘটনায় যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

11

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার মুক্তিযোদ্ধা বাবার ওপর সরকারি বাসায় ঢুকে বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) একটি যৌথ দল।

গ্রেফতার হলেন , জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, র‌্যাব ও পুলিশের একই টিম জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে। তিনিও ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত।

এর আগে শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে হাকিমপুর উপজেলাস্থ হিলির কালিগঞ্জ এলাকা থেকে হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেফতার করে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ দল। গ্রেফতার আসাদুল ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সদস্য। ওয়াহিদা খানম হামলা : ৬ দিনের রিমান্ডে ইউএনও অফিসে মালি

সে উপজেলার ওসমানপুরের আমজাদ হোসেনের ছেলে। আসাদুলই ইউএনও’র মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে বলে জানিয়েছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ ফেরদৌস।

ওসি জানান, হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি এই আসাদুলই ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথায় আঘাত করেছিল। গ্রেফতারের পর তাকে রংপুরে র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

হামলার ঘট্নায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউএনও ওয়াহিদার বড়ভাই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন।

এদিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ২ জনকে গতকাল বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আটককৃত দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাবে না।’

More News :ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে

বুধবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মই বেয়ে ইউএনওর সরকারি বাসায় ঢুকে এবং ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনওর রুমে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত শুরু করে। একসময় ইউএনও’র চিৎকার শুনে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা পাশের রুম থেকে ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই প্রথমে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরদিন সকালে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বাবা-মেয়েকে ঢাকায় আনা হয়। ভর্তি করা হয় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে। ওই হাসপাতালেই ওয়াহিদার বাবাও চিকিৎসাধীন আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ থেকে মাঝেমধ্যেই মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী শেখ। ওয়াহিদার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

এর আগে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ২ জনকে গতকাল বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাটের ওসি আমিরুল বলেন, ‘আটককৃত দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাবে না।’

এদিকে প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল বৃহস্পতিবার রাতে ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর ইউএনও ওয়াহিদাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তবে তার সেরে উঠার বিষয়ে আশা দেখছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথায় ভাঙা হাড়ের ৭-৮টা টুকরো ছিল। সেগুলো আমরা জোড়া দিয়েছি। জোড়া দিয়ে হাড়গুলোকে জায়গা মতো বসিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি যে আরও ছোট ছোট কাটা ছিল সেগুলোও জোড়া দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, তবে এটা মাথার ইনজুরির ব্যাপার। ওয়াহিদার মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং ব্রেনে আঘাত লেগেছে। ব্রেনের ওপর একটা চাপ ছিল, সেটা আমরা রিলিফ করেছি। তবে এখনই ক্লিয়ারলি আমরা বলতে পারবো না যে, রোগী ভালো হয়ে যাবেন। সময় লাগবে। অন্তত ৭২ ঘণ্টা আমরা তাকে পর্যবেক্ষণ করবো। আমরা আশাবাদী, বাকিটা আল্লাহ ভরসা।’

জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘ইউএনও ওয়াহিদার ডান পাশটা অবশ ছিল, প্যারালাইজড। আশা করি, সেটাও সচল হয়ে যাবে। তবে কিছুদিন সময় লাগবে।’


আরসিএন ২৪বিডি.কম / ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০