কবির চৌধুরি জয়

পিরিয়ড কিংবা মাসিক প্রকৃতির পক্ষ থেকে নারীদের জন্য একটি বিশেষ উপহার। আর পিরিয়ড নিয়ে নারীদের কোন সংকোচ ছাড়াই কথা বলার অধিকার রয়েছে।

তবে এখনো আমাদের বাংলাদেশে নারীদের এই প্রকৃতির দেয়া উপহার, পিরিয়ড একটি লজ্জার ব্যাপার বলে মনে করে সমাজ ও সমাজের মানুষজন।

আর একারনেই আমাদের পরিবারের বড়রাও এই বিষয়টি অর্থাৎ মেয়েদের এই পিরিয়ড বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বলেননা।

পৃথিবীতে প্রতিবছর ২৮ মে” বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস “হিসেবে পালন করে আসছে।

এই পিরিয়ডের সময় বিশেষ কিছু যত্ন নেয়া প্রয়োজন সকল নারীদের এর মধ্যে অন্যতম হলো স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যাবহার করা।

এদিকে, ধারনা করা হচ্ছে বাংলাদেশে মাত্র ২০শতাংশ নারীরা বা মহিলারা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন।

ধারনা করা হয়, ১১ কিংবা ১২ বছরের একটি বাচ্চা মেয়ের জন্য মাসিক বা পিরিয়ডের ১ম অভিজ্ঞতা হয়, প্রচন্ড ভয়াবহ ও মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থার।

পরিবারের অসচেতনতার কারণে ১ম পিরিয়ড চলাকালীন সময় সেই শিশুটি ভয় পেয়ে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে দুশ্চিন্তা করতে থাকে এই ঘটনার বিষয়ে। কারন সে সময় শিশুটি এই বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ ছিলো বলে ধারনা করা হয়।

আর এর প্রভাব গিয়ে পড়ে পারে সেই শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর । যার ফলে মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যা হতে পারে বলে ধারনা করছেন বিশেজ্ঞরা।

মেয়ে সন্তানের জন্য পিরিয়ড সম্পর্কে জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ দরকার। তাই পিরিয়ডের মতো জরুরি বিষয় নিয়ে লজ্জা, না রেখে সন্তানের সাথে সরাসরি কথা বলার অভ্যাস তৈরি করুন।তাই আপনার সন্তান বয়ঃসন্ধির সময় এলে এই বিষয় নিয়ে কথা বলুন৷ বিশেষ করে আপনারা মায়েরা আপনার মেয়ে সন্তানদের শরীরিক পরিবর্তন, পিরিয়ড কেন হয়, সেই বিষয়ে বৈজ্ঞানিকভাবেই স্পষ্ট ধারণা দিন। আর স্বামীরা তাদের স্ত্রীকে এভাবে পরামর্শ দিন।

কিশোরী কন্যার পাশে থাকুন, তাকে বোঝান পিরিয়ড কোনো আসে, এটা নারী জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মায়েরা সন্তানের পিরিয়ড হলে তার স্বাস্থ্যকর, পরিষ্কার থাকার বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন। ইনফেকশন এড়াতে এসময়ে কাপড়, তুলা, টিস্যু নয় ব্যবহার করতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত সেনিটারি ন্যাপকিন ব্যাবহারে অভস্থ করে তুলুন মায়েরা।

আরসিএন ২৪ বিডি.কম / ২৯ মে ২০২১
কবির চৌধুরি জয়