হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও গ্রেপ্তারকৃত মাওলানা মামুনুল হক বাবরী মসজিদের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেছেন। পাকিস্তান, কাতার, বাহরাইন এবং ভারত থেকেও ইসলামী মতাদর্শের ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন তিনি ।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন উর রশীদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেখানে একটি বিকাশ নম্বরে দেখা যায় কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন সময়ে জমা হয়েছে। এসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে মামুনুল টাকা আনার কথা স্বীকার করেন।

ডিসি হারুন আরও বলেন, নিজস্ব বিকাশের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ওসব দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। যারা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাবরী মসজিদ তিনি করবেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছে তার ভগ্নিপতি মাওলানা আতাউল্লাহ। চলে যান পাকিস্তান।

সেখানে পলাতক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম আসামি মাওলানা তাজউদ্দিন এর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাজউদ্দিনের সঙ্গে সে ওই দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে বাংলাদেশে পাঠায় মামুনুল হকের বিকাশ একাউন্টে।
আর মামুনুল হকের বাবা চারদলীয় জোট সরকারের একজন নীতিনির্ধারক থাকায় ওই প্রভাবেই তিনি মোহাম্মদপুরের রাহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা গড়ে তোলেন। এই মাদ্রাসার আড়ালে মামুন সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলন কিভাবে সক্রিয় করা যায় সে বিষয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী, গণভবন, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আক্রমণাত্মক বা মানহানিকর মন্তব্য কেন করা হয়েছিল?
এক্ষেত্রে ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের নিয়মও রয়েছে, এমন প্রশ্নে মানুনুল গোয়েন্দাদের জেলার মুখে বলেন, এগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনৈতিক বক্তব্যের সময় অনেক কিছু বলা যায়। আমিও তেমনটি করেছিলাম।

মামুনুলের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দিয়ে তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে যে টাকাটা আসতা এবং তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা কামরুল ইসলাম আনসারীর মাধ্যমে সরকার বিরোধী কাজে ব্যবহার করা হতো। আর বাবরী মসজিদের নাম দিয়ে ইসলামপন্থী মানুষ, ভারতবিদ্বেষী মানুষের কাছ থেকে একটা ফান্ড কালেকশন করে মামুনুল।

কওমী মাদ্রাসার ধর্মভীরু উঠতি বয়সী বাচ্চা শিশুদের দিয়ে ভাঙচুর, বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভাঙচুর করে তিনি চেয়েছিলেন ক্ষমতা যাবেন। সারা দেশে নেতাকর্মীদের সম্বন্বয় করতো হেফাজতে ইসলামের সহযোগী সংগঠন ‘রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন’। সংগঠনের কাজই ছিল ওয়াজ-মাহফিল নিয়ন্ত্রণ করা। যেখানে আয়োজকদের বাধ্য করা হতো হেফাজতের শীর্ষ নেতা মামুনুলকে প্রধান বক্তা হিসেবে রাখার জন্য। এখানে ওয়াজের নামে ইসলাম বা রাষ্ট্রবিরোধী নানা ধরনের বক্তব্য দিতেন মামুনুল হক।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জসহ বেশকিছু এলাকায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম-বাংলাদেশ। যার মূল নেতৃত্বে ছিলেন মামুনুল হক। এর পরই তার বিষয়ে তদন্তপূর্বক নিশ্চিত হয়ে মোহাম্মদপুরের রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি মারামারি মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দারা।

আরসিএন ২৪ বিডি। .কম / ২৫ এপ্রিল ২০২১