জুম্মার নামাজের ইতিহাস

165

আজ পবিত্র জুম্মা বার। শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ একত্রিত করা। এ দিবসকে ইসলাম পূর্বযুগে ‘উরুবা’ বলা হতো।

জুম্মা বার নামকরণ নিয়ে ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এদিন হজরত আদম (আ.)-এর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো একত্র করে পরিপূর্ণতা লাভ করার কারণে জুম্মা বলা হয়। কেউ কেউ বলেন, এদিন আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) পরস্পর একত্র হওয়ায় জুম্মা বলা হয়।

যেহেতু সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন মুসলমান একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই স্থানে একত্র হয়ে জামাতের সাথে সেদিনের জোহরের নামাজের পরিবর্তে এই নামাজ ফরজরূপে আদায় করে, সেজন্য এই নামাজকে জুম্মার নামাজ বলা হয়।নামাজের সময়সূচী একই হলেও জোহরের সাথে জুম্মার নামাজের নিয়ম কিছু পার্থক্য আছে।আর জুম্মার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন

আমাদের প্ৰিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) মক্কা ছেড়ে মদিনা গেলেন। ওই মদিনা পৌঁছার দিনটি ছিল ইয়াওমুল আরুবা (শুক্রবার)।সেদিন তিনি বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় গেলে জোহর নামাজের সময় হয়। সেখানে তিনি জোহর নামাজের পরিবর্তে জুম্মার নামাজ আদায় করেন।এটাই ইতিহাসের প্রথম জুম্মার নামাজ।

তবে আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় আরো পরে। রসুলুল্লাহ (সা.)-এর মদিনায় যাওয়ার পর এবং জুম্মার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে একবার মদিনার আনসার সাহাবিরা আলোচনায় বসেন। তারা বললেন, ইহুদিদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট রয়েছে, যেদিনে তারা সবাই একত্র হয়। নাসারারাও সপ্তাহে এক দিন একত্র হয়।

সুতরাং আমাদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যেদিনে আমরা সবাই সমবেত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করব, নামাজ আদায় করব। অতঃপর তারা আলোচনায় বললেন, শনিবার ইহুদিদের আর রবিবার নাসারাদের জন্য নির্ধারিত।অবশেষে তারা ইয়াওমুল আরুবা শুক্রবারকে গ্রহণ করলেন এবং তারাই এদিনকে জুমার দিন নামকরণ করলেন (সিরাতুল মুস্তাফা ও দারসে তিরমিজি)।

জুম্মার দিন জুম্মার নামাজের গুরুত্ব স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও কোরআনে তুলে ধরেছেন।

জুম্মার নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুম্মার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত চলো এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ খোঁজ করো ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও (সুরা জুমা : ৯-১০)।

পরিশেষে আল্লাহতায়ালা আমাদের জুম্মার দিনের আমলসমূহ সঠিকভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। জুমামার দিনের নামাজ যেন আমরা সবাই আল্লাহর ঘরে গিয়ে সুস্থ শরীর ও মন নিয়ে আদায় করতে পারি সেই তাওফিক আল্লাহ দান করুন। আমীন।

আরসিএন ২৪ বিডি / ২৬ নভেম্বর ২০২১