ইতিকাফ কাকে বলে

রমজান মাসের ১০ রোজায় লাইলাতুল কদর প্রাপ্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য ই’তিকাফ জরুরি বিষয়। ইতিকাফ মানে হলো আঁকড়ে ধরা অর্থাৎ উদ্দেশ্য হাসিলের নিমিত্তে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ও তার প্রতি মনকে আবদ্ধ রাখা।

ইসলামি শরিয়তে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের জন্য রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করা এবং এই দিনগুলোকে আল্লাহর জিকিরের জন্য নির্দিষ্ট করা মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে।
ইতিকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্য সব কিছু থেকে আলাদা করে থাকে । ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য সাধনায়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার জীবনে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করে গেছেন। (বুখারি, মুসলিম)।

পবিত্র কোরআনে হজরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর কথা উল্লেখ করে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৫)।

ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে কী আচরণ হবে, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফকালে স্ত্রীদের সঙ্গে মেলামেশা করো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৭)

ইতিকাফ এর বিধিবিধান :
নফল ইতিকাফ (রোজাসহ কমপক্ষে এক দিনের জন্য অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা ) মান্নত করলে বা আরম্ভ করে ছেড়ে দিলে, তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। এর জন্য রোজা শর্ত এবং এটি এক দিনের (২৪ ঘণ্টা) কমে হবে না। যেকোনো দিন সূর্যাস্তের পূর্ব হতে পরের দিন (রোজাসহ) সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইতিকাফ করলে পূর্ণ এক দিন ইতিকাফ হয়।

আখিরাতের কল্যাণে লাভ, গোনাহ মাফ ও জান্নাত হাসিলের জন্য ইতিকাফের প্রস্তুতি নেয়া প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের কে ইতিকাফকালীন সময়ে পরিবারের সকল খরচাদি ও প্রাথমিক সমস্যা সমাধান করে আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে রমজানের শেষ দশ দিন আত্মসমার্পন তৌফিক দান করুন। আমিন

আরসিএন ২৪ বিডি.কম
অনলাইন আপডেট : ৫ মে ২০২১