শীতে শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি

301

ইতিমধ্যেই শীত আসতে শুরু করেছে ,এই শীতে আপনার শিশুর যত্ন নিবেন যে ভাবে। প্রত্যেকেরই, এমনকি নবজাত এবং সদ্য হাঁটতে শেখা ছোট শিশুদেরও প্রয়োজন বিশুদ্ধ বায়ু।


শিশুকে শীতকালে উষ্ণ রাখা অথচ যাতে সে গরম বোধ করতে শুরু না করে তার জন্য খুব বেশি স্তরের মোটা আচ্ছাদন দ্বারা আবৃত করে না রাখার মাঝে একটা সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলা বেশ কৌশলের একটা কাজ।সুতরাং চলুন খোঁজ করা যাক এমন কিছু চমৎকার উপায়, যার দ্বারা নিশ্চিত করা যায় যে আপনার নবজাত শিশুটি শীতের সময় কোনওরকম অস্বস্তিবোধ না করেই উষ্ণ এবং সুস্থ থাকতে পারে।

শীতের রাতে শিশুকে উষ্ণ রাখা

প্রাপ্তবয়স্কদের মতো করে বাচ্চারা (বিশেষত 2 বছরের কম বয়সী) তাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নয়।শীতের শুরুতে, আপনি হয়ত খেয়াল করবেন যে কীভাবে শিশুর হাত–পাগুলি ঠান্ডা হয়ে যায় এবং তা গরম রাখার জন্য অবিলম্বে আপনি কিছু করতে চাইবেন।তাদের জন্য উপযুক্ত শারীরিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য রাত্রি বেলা ঘুমানোর সময় তাদের আরামদায়কভাবে চাপা দিয়ে দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তবে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পোশাকের অতিরিক্ত স্তর হঠাৎ শিশু মৃত্যু সিনড্রোমের (এসআইডিএস) ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

নবজাতক ও ছোট শিশুর খাবার

যদিও শীতকালে ঘুমের সময় বাচ্চাকে উষ্ণ রাখাটা জরুরী, তবে সেক্ষেত্রে এমন কয়েকটি মূখ্য বিষয়ও রয়েছে যেগুলি এসআইডিএস–এর ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য মনে রাখতে হবে।তাহলে আসুন এবার দেখে নেওয়া যাক যে আপনার বাচ্চাকে শীতের সময় গরম রাখার জন্য আপনি কী কী করতে পারেন।

রাত্রে আপনার বাচ্চাকে উষ্ণ রাখার জন্য আপনি কী কী করতে পারেন
আগেই যেরকম বলা হয়েছে যে, শিশুরা তাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।শীতের গরম জামা–কাপড় পরিয়ে এবং ঘরের তাপমাত্রায় সামঞ্জস্য এনে মা–বাবারই সেটি রক্ষা করা দরকার।এখানে বলা হল রাত্রে কীভাবে আপনি আপনার ছোট্টটিকে উষ্ণ রাখবেন যাতে সে আরাম করে ঘুমাতে পারে।

আপনার শিশুর ঘরের তাপমাত্রার জন্য আদর্শ পরিসরটি 20-22.2 ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে হওয়া উচিত।
শীতের রাতে ঘুমানোর সময় আপনার শিশুকে গরম রাখার সবচেয়ে সেরা উপায় হল তাকে পায়ের তলা পর্যন্ত একটি স্লিপস্যুট পরানো, যাতে সেটি তার পা এবং পায়ের আঙ্গুলগুলিকেও উষ্ণ রাখে।যদি আপনার শিশুর ঘরটি তাপমাত্রার স্কেলের শীতল প্রান্তে থাকে তবে তার স্লিপসুটের তলায় একটি পাতলা গেঞ্জি বা জামা পরিয়ে রাখুন।
শীতল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত জামাকাপড়ের কারণে হয়ে থাকা চুলকানি এবং ত্বকের শুষ্কতা এড়াতে বাটার এবং মিল্ক ক্রিম সমৃদ্ধ একটা ভাল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।


বাইরে যদি ভীষণ ঠাণ্ডা থাকে আপনার ঘরের জানলাগুলি বন্ধ রাখুন, তবে আপনার শিশুর কক্ষটিকে বায়ুচলাচল যোগ্য রাখাটাও নিশ্চিত করবেন।তার ঘরে আপনি একটি রুম হিটার বা হিউমিডিফায়ার রাখতে পারেন যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন এবং আপনার সোনাকে রাত্রে উষ্ণ এবং আরামদায়কভাবে রাখতে পারবেন।


যদি আপনার মনে হয় যে শীতের রাতে আপনার শিশুর জন্য কেবল এক সেট সুট–ই যথেষ্ট নয়, তবে তার আরাম এবং শান্তিপূর্ণ ঘুমের জন্য একটা নরম কম্বল দিয়ে তাকে ভালোভাবে জড়িয়ে দিন।যদি সে পা ছুঁড়ে কম্বলটা বারবার খুলে ফেলে, তবে তাকে একটা স্লিপিং ব্যাগে রেখে দিতে পারেন।
এছাড়াও, শীতের ঠাণ্ডায় আপনার শিশুকে অতিরিক্ত স্বাচ্ছন্দ্য দিতে আপনার দেহের উষ্ণতা কাজে লাগানোর একটা দুর্দান্ত উপায় হল বেবি ক্যারিয়ারগুলির ব্যবহার।
একটা উপযুক্ত সুতির চাদর এবং একটা নরম, তুলতুলে কম্বল শিশুকে তার বিছানার মধ্যে গরম রাখতে পারে।তাছাড়াও, পাতলা কম্বলের কিছু অতিরিক্ত স্তর তার গায়ে চাপা দেওয়া অথবা তার গা থেকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, ঘরের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।

বিকল্পরূপে, একটি ছোট শিশুকে রাত্রে উষ্ণ এবং আরামদায়ক রাখার জন্য একটা বেবি স্লিপিং ব্যাগ বা স্লিপ–স্যাকের ব্যবহার সেরা বিকল্প হয়ে উপঠতে পারে।
বাচ্চাকে বিছানায় শোয়ানোর আগে কিছু সময়ের জন্য তার বিছানার মধ্যে একটা হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিটিং প্যাড রেখে দিলে তা তার ঠাণ্ডা চাদরে একটি অতিরিক্ত উষ্ণতা যোগ করবে।এটি আবার বাচ্চার বিছানাটিকেও গরম রাখে আর তাকে আরাম করে ঘুমাতে দেয়।
আপনার বাচ্চা যদি কম্বল চাপা দেওয়ার খুব একটা বড় ভক্ত না হয়, তবে দস্তানা ও মোজার দ্বারা তার হাত এবং পাগুলিকে গরম রাখুন।

শিশুর সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করা
সুরক্ষা টিপ
বিছানায় বা বাড়ির কোথাও ঘুমানোর সময় শিশুর মাথা ঢেকে রাখবেন না।এটি তার দেহে অতিরিক্ত উত্তাপ সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠতে পারে, যেহেতু অতিরিক্ত পরিমাণে তাপ শিশুর মাথার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।আপনার শিশু একবার ঘুমিয়ে পড়ার পরে, সে ঘামছে, গরমে রাঙা হয়ে উঠছে বা দ্রুত শ্বাস ফেলছেচ কিনা তা লক্ষ্য করুন। তার ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে দিন অথবা শুধুই তার চাপা বা মাথার টুপি খুলে সরিয়ে দিন।

সুরক্ষা টিপ

শীতের সময় বাইরে বেরোনোর জন্য শিশুকে সেরকম উপযুক্ত পোশাক পরান
আপনার ছোট্টটির সাথে শীতল ও কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়ার শিরোনামটি উঠে আসার সময় স্বাভাবিকভাবে চলে আসা চলতি সেই নিয়মটিকেই কেবল গ্রহণ করুন, যা হল আপনার শিশুকে আপনি যা পরে থাকেন তার তুলনায় আরও একটি স্তর অতিরিক্ত পোশাক পরানো প্রয়োজন।এক্ষেত্রে তার গরম আরামদায়ক পোশাক এবং কোটগুলি থেকে শুরু করে হিটার এবং হিউমিডিফায়ার পর্যন্ত এমন অনেক জিনিস রয়েছে যেগুলির কথা আপনার বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে বিবেচনা করা দরকার।বাড়ির বাইরে আপনার শিশুকে উষ্ণ রাখার ক্ষেত্রে আপনার জানার প্রয়োজন হতে পারে এমন কিছু টিপস এবং কৌশলগুলি এখানে আলোচনা করা হল।


বাড়ির বাইরে আপনার বাচ্চাকে গরম রাখার জন্য আপনি কী কী করতে পারেন
আপনার শিশুকে সবসময় তার পোশাকের তলায় একটা পাতলা আস্তরণ বা স্তর আছে এজাতীয় পোশাক করান যাতে তার মাঝে তাপ আটকে থাকে।শুরুতেই একটা পাতলা ও নরম সুতির টেপজামা বা গেঞ্জি পরান এবার তার ওপর ফুলহাতা টি–শার্ট ও লেগিন্স পরান।আর বাইরে যদি মারাত্মক ঠাণ্ডা হয়, তবে আপনি তার উপর আবার একটা শীতের জ্যাকেট পরিয়ে দিতে পারেন।
আপনার বাচ্চাকে নরম ও বায়ু চলাচলযোগ্য কাপড়ের পোশাকের স্তরগুলি পরান।


শীতের সময় আপনার বাচ্চার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল টুপি যা শীতের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস থেকে তার কানকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
একটি শিশুর হাত তার শরীরের তাপমাত্রা বোঝার একটি ভাল ইঙ্গিত।সুতরাং, গ্লাভস বা দস্তানা পরিয়ে রেখে (নবজাতকের জন্য) অথবা কম্বলের ভিতরে তাদের হাতগুলিকে ঢুকিয়ে দিয়ে বাচ্চাদের হাত গরম রাখুন (হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চাদের জন্য)।


বাইরে ভ্রমণের সময় নবজাতক, বিশেষত প্রিম্যাচিওর বেবিদের ক্যাঙ্গারু কেয়ার দেওয়া যেতে পারে।এটি এমন একটি থেরাপি যেখানে শিশুকে সরাসরি তার মা–বাবার ত্বকের ওপর রাখা হয়, যা তাকে উষ্ণ এবং আরামদায়ক রাখার জন্য যথেষ্ট।


সুরক্ষা টিপস


সর্বদা নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার শিশুটি ভিতর থেকেই শুকনো রয়েছে কারণ স্যাঁতসেঁতে পোশাকের জন্য সামান্য আর্দ্রতাও হাইপোথার্মিয়ার কারণ হতে পারে, এমনকি সেক্ষেত্রে যদি বাইরের তাপমাত্রা 40 ডিগ্রি ফারেনহাইডের থেকেও বেশি হয়।


শীতের সময় আপনার বাচ্চাকে উষ্ণ রাখার জন্য, গাড়ির আসনটি উদ্বেগের একটা বড় বিষয় হয়ে ওঠে কারণ কোটের মতো বিশাল কাপড়গুলি ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষিত রাখতে স্ট্র্যাপগুলিতে আরামদায়কভাবে ফিট করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

আরসিএন২৪বিডি. কম /১৮ অক্টোবর ২০২১