এক বকরির প্রজন্ম থেকে রউফ মিয়া এখন খামার মালিক

51

জীবনে সফল হতে সঠিক পরিকল্পনায় যতেষ্ট। দুঢ় মনোবল নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করলে সেই ব্যক্তিই পোঁছাতে পারবে তার লক্ষ্যস্থানে। এমনকি একজন ব্যক্তি আব্দুর রউফ মিয়া।

তিনি একটি বকরির প্রজন্ম থেকে ২০ ছাগল-বকরির মালিক হয়েছেন।ইতোমধ্যে বসতবাড়িতে গড়ে তুলেছেন ছাগলের খামার।
এই আব্দুর রউফ মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজ গেট সংলগ্ন। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক।

সরেজমিনে শুক্রবার (৯ জুলাই) আব্দুর রউফ মিয়ার বাড়িতে দেখা যায়, ছাগল-বকরির ছুটাছুটির ঝাঁক । একটু আহারের জন্য এমন ছুটাছুটি করছিল। এসময় খাবার দেয়ার মাত্রই থামতে থাকে ছাগল-বকরিগুলো।

জানা যায়, আব্দুর রউফ মিয়া একজন স্কুল শিক্ষক হলেও, নিজের জীবন কিংবা পরিবারকে সাজাতে নানাভাবে স্বপ্ন দেখেন। এমনি এক স্বপ্নের বাস্তবরূপ দিতে প্রায় ৪ বছর আগে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দামে একটি দেশিয় জাতের বকরি ক্রয় করে। এটির প্রজন্ম নিয়েই একটি ছাগলের খামার করবেন, এমন পরিকল্পনায় গ্রহন করেন তিনি। রউফ মিয়া তার লক্ষ্য পুরণে কঠোর ইচ্ছেশক্তিতে ওই বকরিটি লালন পালন শুরু করতে থাকে।
এরপর প্রজনন দিয়ে ৫ মাসের মধ্যে ৩ টি বাচ্ছা পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে। এতে অধিক খুশিতে রউফ মিয়ার আরও আগ্রহ বেড়ে যায়। ধারাবাহীকভাবে একটি বকরির প্রজন্ম থেকে এখন ২০ টি ছাগল-বকরির মালিক বুনেছে। এ দিয়ে খামারে পরিনত হয়।

"এক বকরির প্রজন্ম থেকে রউফ মিয়া এখন খামার মালিক
"


এ খামার থেকে লক্ষাধিক টাকা আয়ের উৎস তৈরী হয়েছে তার।
ইতোমধ্যে ওই খামারের ৭ টি ছাগল (খাসি) বিক্রির উপযুক্ত সময় হয়েছে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিক্রি করবেন, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রউফ মিয়া। পূর্বের বাজার অনুয়ায়ী প্রত্যেকটি খাসির দাম প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হবে। কিন্তু বিধিমাম! সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউনে স্থানীয় পশুরহাটগুলো বন্ধ রয়েছে। যার প্রভাবে ওই খাসিগুলো বিক্রি অনিশ্চিত দেখা দিয়েছে। তারপরও বিকল্প উপায় চেষ্টা করা হচ্ছে খাসিগুলো বিক্রি করতে।

খামার মালিক আব্দুর রউফ মিয়া রংপুর ক্রাইম নিউজ -কে বলেন, জীবনের সাফল্য অর্জনে সঠিক পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক। সুন্দর একটি পরিকল্পনায় মানুষের জীবনকে আলোকিত করতে পারে। সেই পরিকল্পনায় আমার একটি বকরির প্রজন্ম থেকে এখন খামারের মালিক হয়েছি। তবে লকডাউনের কবলে ৭ টি ছাগল বিক্রিতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি আর জানান, প্রশিক্ষণ ছাড়াই ওইসব ছাগল-বকরি প্রতিপালন করা হচ্ছে। খাদ্য হিসেবে দৈনিক চাহিদামতো গম, ভুট্টা, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ইত্যাদি দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে প্রাণিসম্পদ অফিসের সহযোগিতা পেলে আরও অনেকটাই লাভবান হওয়া সম্ভব।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান কনক রংপুর ক্রাইম নিউজ-কে বলেন, ছাগলের খামার অনেকটাই লাভজনক ব্যবসা। অল্প পুঁজিতে অধিক টাকা আয় করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে অনলাইন ব্যবস্থাপনায় আব্দুর রউফ মিয়ার ছাগলগুলো বিক্রির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুগল নিউজ : রংপুর ক্রাইম নিউজ পড়তে ক্লিক করুন

আরসিএন ২৪বিডি .কম / ০৯ জুলাই ২০২১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here