ধর্ষণের শিকার কিশোরীর সন্তান প্রসব স্বীকৃতি চাওয়ায় বাড়ি ছাড়া

111

রংপুর পীরগঞ্জে প্রতিবেশী বড় ভাইয়ের লাম্পট্যের শিকার অন্তসত্তা কিশোরী পুত্র সন্তান প্রসব করেছে।

সন্তানের স্বীকৃতি চাওয়ায় অসহায় কিশোরীসহ তার পরিবারকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখানোর ফলে ওই কিশোরী (১৩) অন্তঃস্বত্তা অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে পাশ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলায় তার চাচা’র বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানেই সে ১টি ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করে। গ্রাম্য সালিসে বিচার চেয়ে ব্যর্থ কিশোরীর অসহায় পরিবার নবজাতককে নিয়ে এখন মহাবিপাকে পড়েছেন।

আজ রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হলে জানায়, সুজারকুটি গ্রামের মৃত- ইসমাঈল আলীর পুত্র দু’সন্তানের জনক মোনতাজ ওরফে মমতাজ আলী (৬২) প্রতিেিবশী হতদরিদ্র শ্রবণ প্রতিবন্ধী বাবা ও শারিরীক প্রতিবন্ধী মা’য়ের একমাত্র কন্যা ওই কিশোরীকে নির্জন বাড়িতে ভাত রান্নার ছলনা দিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে মুখে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার হুমকী দেখিয়ে বলপূর্বক ধর্ষণ করে। গ্রাম্য সম্পর্কে ওই কিশোরী ধর্ষক মমতাজের ছোট বোন।

সে স্থানীয় সুজারকুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।প্রায় ১০মাস পূর্বে লম্পট মমতাজ আলীর পুত্রবধু শাহানাজ পারভীন সন্তানসম্ভবা হওয়ায় তাকে সিজারের জন্য রংপুর মেডিকেল ভর্তি করা হয়। এ সময় পুত্র লিটন মিয়া, কন্যা স্বপ্না বেগম ও তার স্ত্রী ছানোয়ারা বেগমও মেডিকেলে গেলে ৩দিন বাড়ি ফাঁকা ছিল।

এ সুযোগে মমতাজ আলী ওই কিশোরীকে নানা ভয়-ভীতি, অর্থের প্রলোভনও মেরে ফেলার হুমকী দেখিয়ে প্রায়ই ধর্ষণ করে আসছিল।এদিকে প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মে ওই কিশোরী তার অজান্তে অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। গ্রাম প্রতিবেশীরা তার শারিরীক গঠন পরিবর্তনের ঘটনায় নানাভাবে প্রশ্নবানে জর্জরিত করতে থাকে। বিষয়টি ওই কিশোরী বরাবরই অস্বীকার করে আসছিল।সে তখনও জানতো না যে, তার গর্ভে সন্তান। এক পর্যায়ে গত ৭ আগষ্ট এক ‘কমিউনিটি হাসপাতাল’এ নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ৬ মাসের অন্তঃস্বত্তা বলে জানান।

এ বিষয়ে পরিবারের লোকজন ওই কিশোরীর নিকট জানতে চাইলে সে প্রকৃত ঘটনা খুলে বলে।বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে প্রভাবশালী মোনতাজ ওরফে মমতাজ আলী ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই অসহায় কিশোরীর বাড়িতে হামলা চালায়।অব্যাহত ভয়-ভীতি ও হুমকীর কারণে প্রাণভয়ে ওই কিশোরী গত ৪ আগষ্ট বাড়ি থেকে পালিয়ে পাশ্ববর্তী দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় তার দিনমজুর চাচা বুলু মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

এক পর্যায়ে গত ( ১৫ নভেম্বর )বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে রোজ সোমবার ওই কিশোরী একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করে। কিশোরীর বাবা-মা প্রতিবন্ধী হওয়ায় তারা ভয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ারও সাহস করেনি।ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য কিশোরীর চাচা বুলু মিয়া ও তার স্ত্রী সমস্ত বেগম স্থানীয় সুজারকুটি মসজিদে বিচার প্রার্থণা করলে গত ৮ আগষ্ট রাতে গ্রামে সালিস বৈঠক হয়। বৈঠকে মমতাজ আলী ওই স্কুলছাত্রীকে তার অপকর্মের জন্য এক লক্ষ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন। ফলে মিমাংসাবৈঠক ভেস্তে যায়।

স্কুলছাত্রীটি ভেজা চোখে তার ভবিষ্যৎ ও সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ও (মমতাজ আলী) আমার জীবনটা শেষ করে দিলো। আমি কি- আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয় পাবো না! হবে না বিচার?এ বিষয়ে গত ১৩ ও ১৪ আগষ্ট কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ হলে ওই দিন বিকালে সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) কামরুজ্জামানের নির্দেশে থানায় মামলা পূর্বক অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মোনতাজ ওরফে মমতাজকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ধর্ষক জেল হাজতে।

আরসিএন ২৪ বিডি /২৮ নভেম্বর ২০২১