এলএসডি বর্তমান বিশ্বের ভয়াবহ মাদকদ্রব্য। এই মাদক ব্যবহারের পর সেবনকারীরা নিজেকে হত্যার চেষ্টা করতেও একবারও ভাবে না । বাংলাদেশে এলএসডি মূল্য অনেকটাই বেশি।

এলএসডি আবিষ্কার

সুইস রসায়নবিদ আলবার্ট হফম্যানই প্রথম পরিচয় করে দেন এলএসডির সঙ্গে।হফম্যান কখন এলএসডি মাদক হিসাবে তৈরি করে নি। হফম্যান ৩০ দশকে ”এরগট” নামক এক ধরনের প্যারাসাইটিক ফাঙ্গাস দমনের কার্যকরী ওষুধ হিসেবে এলএসডি আবিষ্কার করেন । কম রক্তচাপ, মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উন্নতি শ্বাস-প্রশ্বাস উন্নত করার ওষুধ তৈরির জন্য লাইসার্জিক অ্যাসিড নিয়ে কাজ করছিলেন হফম্যান । তবে হঠাৎ করেই নিজের অজান্তে এলএসডি নামক আধুনিককালের ড্রাগের আবিষ্কার করেন হফম্যান। ১৯৩৮ সালে এটি বিজ্ঞানী এবং ফিজিশিয়ানদের কাছে এই মাদক আবিষ্কারের পর কোনো গুরুত্ব পায়নি। পাঁচ বছর পর, এলএসডি-২৫ নিয়ে আবার হফম্যান কাজ করা শুরু করেন। নিজের জিভে ২৫ মাইক্রোগ্রাম স্পর্শ করালেন। এরপরই হফম্যান চলে যান স্বপ্নের জগতে।
পরেরদিন হফম্যান জিভে নিলেন ২৫০ মাইক্রোগ্রাম এর প্রায় ১০গুণ বেশি। ফলাফল ওই একই ছিল, তবে হফম্যান ঘাবড়ে যান । দ্রুত চিকিৎসককে ডেকে নিজের হার্টরেট, ব্লাডপ্রেশার, শ্বাস-প্রশ্বাস সবই পরীক্ষা করান। সবই ঠিক ছিলো।

এরপর হফম্যান সহকর্মীরা সবাই স্বাদ, বর্ণ ও রংহীন সেই ড্রাগ একে একে টেস্ট করলেন। নতুন এক জগতের দেখা পেলেন সবাই এটি ব্যবহারের পরপরিই । যা চিন্তা-ভাবনাকে সেই সময়ে পরিবতন করতো পারে । এভাবেই ভয়াবহ মাদক এলএসডি আবিষ্কৃত হয় ।

"আলবার্ট হফম্যান"
আলবার্ট হফম্যান

এলএসডি কী?

এলএসডির পূণ্যরূপ লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড। এটি এক ধরনের সাইকেডেলিক ওষুধ, যা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের জন্য পরিচিত । এটি প্রধাণত প্রমোদমূলক ওষুধ হিসেবে এবং মনকে শান্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এলএসডি সাধারণত একটা ছোট কাগজে করে জিভের নিচে রেখে ব্যবহার করা হয়। এই অ্যাসিড চিনির কিউব, বল্টার কাগজ বা জিলেটিনে বিক্রি করা হয়। তবে চাইলে ইনজেকশনের সাহায্যেও নেয়া যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনস্থ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ড্রাগ অ্যাবিউজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডি-লাইসার্জিক অ্যাসিড ডায়েথিলামাইড (এলএসডি) রাসায়নিক সংশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি একটি পদার্থ। বিভিন্ন ধরনের শস্যের গায়ে জন্মানো এক বিশেষ ধরনের ছত্রাকের শরীরের একধরণের লাইসার্জিক অ্যাসিড পাওয়া যায়। আর সেই লাইসার্জিক অ্যাসিড থেকে তৈরি করা হয় এলএসডি ।

এলএসডি এমন একটি অ্যাসিড যা চকচকে বা স্বচ্ছ , গন্ধহীন । যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের মতে এটি তরল,পাউডার, ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। সাইকাডেলিক মাদক হিসেবে এলএসডিকে চিহ্নিত করা হয়। মানুষের মতিভ্রম ঘটে এই ধরনের মাদকের প্রভাবে। আশেপাশের পরিবেশ ও বাস্তবতাকে মুহূর্তেই ভুলে যায় এমন কি নিজের জীবনকেও শেষ করতে পারে।

"গুগল নিউজ এ রংপুর ক্রাইম নিউজের সর্বশেষ খবর পড়তে ক্লিক করুন"
গুগল নিউজ এ রংপুর ক্রাইম নিউজের সর্বশেষ খবর পড়তে ক্লিক করুন।

এলএসডি সেবনের পর মস্তিষ্কে কী ঘটে?

এলএসডি নেয়ার পর সাধারণত মানুষ ‘হ্যালুসিনেট’ করে বা এমন দৃশ্য দেখে যা বাস্তবে নেই। অনেক সময় কাল্পনিক দৃশ্য দেখার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে মানুষ। এমনকি নিজেকে নিজেই শেষ করে দিতে পারে। তবে ব্যাতিক্রম ঘটনাও আছে যেমন অনেকেই এই মাদক ব্যবহারের পর ভালো অনুভূতি বোধ করেন। আবার অনেকেই উন্মাদ হয়ে ভয়ঙ্কর কিছু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়েই বিপদগ্রস্ত হয়ে থাকেন। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই এলএসডি নিষিদ্ধ।

সম্প্রতি এলএসডির উপর গবেষণা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা বেকলি ফাউন্ডেশন তারা শারীরিক ও মানসিক সুস্থ এমন ২০ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে গবেষণার চালায় ২ দিন ধরে। ২দিন ট্যাবলেট ও ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ৭৫ মাইক্রোগ্রাম এলএসডি প্রয়োগ করা হয় স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর। এরপর বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে মাথা রক্তপ্রবাহ ও মাথার ভেতরে রক্তের চলাচল পরীক্ষা করা হয় ও ছবি তোলা হয়। এলএসডি গ্রহণের পর গ্রহণকারী চোখ বন্ধ করেওকাল্পনিক সব দৃশ্য চোখের সামনে দেখতে পায়। তখন সে বাস্তব আর কাল্পনিক কোনটা বুঝতে পারে না বা ভেদাভেদ করতে পারে না কোনটা বাস্তব আর কোনটা কাল্পনিক । এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখতে পায় কল্পনাশক্তির সাহায্যে । এলএসডি গ্রহণের পর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। তবে মস্তিকের সাথে বিভিন্ন অংশের যোগাযোগ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। এই মাদকের প্রভাবে মস্তিষ্কের কাজ করার ভিন্ন ভিন্ন অংশ মিলেমিশে যায়।

একই সঙ্গে এলএসডি সেবনে কারণে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা ভেঙে যায় এবং আলাদাভাবে কাজ করতে থাকে। এলএসডি গ্রহণের ফলে মানুষের রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ ছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা, নির্ঘুম, অতিরিক্ত ঘামসহ নানা ধরণের মানসিক সমস্যাও তৈরি হয়।

১৯৩৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এলএসডিসহ সব ধরণের সাইকাডেলিক ড্রাগ নিষিদ্ধ করে। এরপর জাতিসংঘ ১৯৭১ সালে চিকিৎসা কাজে এলএসডি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে এই বিষয়ে গবেষণায় ভাটা পড়ে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশেররসায়নবিদ ও মনোচিকিৎসকরা দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, মানসিক অবসাদের মতো অসুস্থতার চিকিৎসায় হিসাবে এলএসডির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছে ।

আরো পড়ুনঃ গাজিপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত

রংপুরে পৃথক অভিযানে ৪৬০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

১৭৭ বোতল ফেন্সিডিল সহ ৫ জন আটক

৩১৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক-২

রংপুর ক্রাইম নিউজ : সকল খবর পড়তে ক্লিক করুন

অনলাইন আপডেট :০২জুন ,২০২১
আরসিএন২৪বিডি.কম