নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট:
জেলার পাটগ্রাম সীমান্তে বহুল আলোচিত তিন বিঘা করিডর মানবপাচারের মাফিয়া চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই চক্রকে ঘিরে এখানে গড়ে উঠেছে বিশাল নেটওয়ার্ক।

মানব পাচার, চোরাচালান সহ নানা অপরাধীগণ এই রুট রুট ব্যবহার করে তাদের পররাধের সম্রাজ গড়ে তুলেছে। সীমান্তের দুই দেশের নাগরিকরা এই অপকর্মেও সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। এই চক্রের হেতারা অনেক প্রভাবশালী তাদেও নাম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে কিন্তু তারা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। শিশু, কিশোর ও যুবকসহ ১২ জন বিজিবির হাতে আটকের পর বিষয়টি গোয়েন্দা নজরে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত অপরাধের নানা তথ্য বেড়িয়ে আসছে।

পাটগ্রাম থানা পুলিশ সূত্র জানা গেছে, জেলার পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ি সীমান্তে রংপুরর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পানবাড়ি বিওপি ক্যাম্পের টহল দল শুক্রবার পানবাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৮১২ এর অভ্যন্তরে শিশু, কিশোর ও যুবকসহ বিভিন্ন বয়সের ১২ জন কে আটক করে। তারা তিন বিঘা করিডর দিয়ে গভীর রাতে ভারতে যাচ্ছিল। এ সময় ভারতীয় ৪৫ বিএসএফ (তিন বিঘা করিডর) ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। তখন তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে বিএসএফের হাত হতে রক্ষা পায়। গ্রামবাসীরা বিজিবিকে খবর দিলে ভোর রাতে পাটগ্রামের পানবাড়ি বিওপি ক্যাম্পের( ৫১ বিজিবির) সদস্যরা তাদের আটক করে থানায় ভারতে অনুপ্রবেশের অপরাধে থানায় মামলা দায়ের করে ও তাদের পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করে।


পানবাড়ি চেকপোষ্টে কর্তব্যরত বিজিবির ল্যান্স নায়েক মাহবুবুর রহমান জানান, আটককৃতরা ঠাকুর গাঁ জেলার হরিপুর থানার মেদনী সাগর গ্রামের আবুল কালামের পুত্র মোঃ শামসুল (২১), একই গ্রামের মোঃ রফিকুলের পুত্র মোঃ সোহেল রানা(১৭), লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা চলবলা গ্রামের কার্তিক বর্মণের পুত্র তুলারাম(২৫), একই জেলার চলবলার ধনঞ্জয় রায়ের পুত্র অমৃত রায়(১৯), ঠাকুরগাঁ জেলার হরিপুর থানার মেদনী গ্রামের মোঃ মালেকের পুত্র মোঃ রিপন(১৭), একই গ্রামের আঃ তোয়াবের পুত্র মোঃ সোহেল(২০), একই থানার ঘোড়াডাঙ্গী গ্রামের আঃ মালেকের পুত্র জাফর(২২), একই থানার মুন্না টুলি গ্রামের তৈবুর আলীর পুত্র মোঃ মাসুদ রানা, লালমনিরহাট জেলা পাটগ্রাম থানার দহগ্রামের মহব্বত আলীর শাকিল (২০), ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার বরুয়াল গ্রামের মোঃ সোনারদীর পুত্র মোঃবিটু(১৬), একই জেলার মারাধার গ্রামের মোঃ তরিকুলের পুত্র মোঃ আকাশ(১৫), একই জেলার হরিপুর থানার মেদনী সাগর গ্রামের মোঃ জমিরুল ইসলালের পুত্র মোঃ রমিম রানা(১৭)। এদের ভারতে চাকরি ও উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচার করা হচ্ছিল।


একটি সূত্র জানায়, এখানে তিন বিঘা করিডর ঘিরে দুই দেশের মাফিয়া চক্র একটি অপরাধের সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। চক্রটি এখানে নানা কৌশলে দুই দেশেই মানব পাচার সহ নানা অবৈধ ব্যবসার নেটওর্য়াক গড়ে তুলেছে। এই চক্রটি ভারতে ইটের ভাটা, নির্মাণ শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির যোগালি, রাজমিস্ত্রির ও নানা অনৈতিক কাজ করাতে নিয়ে যাচ্ছিল। ওই সীমান্তের মাফিয়া চক্র মোটা দাগের অর্থের বিনিময়ে তাদের ভারতে দালালদের হাতে তুলে দিত। এভাবে ভারতীয় নারী, শিশুদের বাংলাদেশে নিয়ে এসে নান অপরাধে কাজে লাগাছে।

এমন কী অনেক দাগী অপরাধী এই সীমান্তকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা অপরাধ করে সুবিধামত যখন যে দেশে অবস্থান নিচ্ছে। পানবাড়ি সীমান্তে মানব পাচারকারী গ্রুপের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে মানব পাচার নারী, শিশু ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে। এই চক্রটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের শতাধিক মাফিয়া সদস্য জড়িত রয়েছে।

তারা দুই দেশের সীমান্ত গ্রামের জনসাধারণের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে র্নিবিঘেœ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনা বেগতিক দেখলে এই চক্রটি কিছু দিন চুপচাপ থাকে। পওে সুবিধামত পূণরায় সীমান্তে অবৈধ মাদক, গরু পাচার, মানব পাচারসহ নানা অপারাধে জড়িয়ে পড়ছে।

এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অপরাধী গ্যাং স্টাররা অবৈধ ক্ষুদ্র আগ্নোস্ত্র সংগ্রহের অপচেষ্টা গোয়েন্দা সংস্থা নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। অপরাধীরা এই সীমান্ত দিয়ে ভারত হতে বিস্ফোরক সংগ্রহ করে। ভারতে ধর্মীয় কালচারের অংশ হিসেবে বাজি পুড়ানো হয়ে থাকে। সে কারণে সেখানে খুব সহজে বাজি তৈরির বিস্ফোর বাজারে পাওয়া যায়। অপরাধীরা এই সুযোগ নিচ্ছে।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত জানান, পানবাড়ি সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক ৬ জন বয়সে কিশোর। তাদের তাদের স্বজনদের হাতে ফিরত দেয়া হয়ে।

অন্য ৬ জন যুবকে আদালতের মাধ্যমে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

আরসিএন ২৪বিডি. কম, জিএম

অনলাইন আপডেট : ৫:৪১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি