কুড়িগ্রামে স্ত্রী পিংকী খাতুন শিল্পীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাসেল বাবু’র মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. আব্দুল মান্নান এই রায় প্রদান করেন। এ সময় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়া আসামী রাসেল বাবু পলাতক ছিল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে , জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন হাতেম আলীর কন্যা পিংকী খাতুনের সাথে পাশ্ববর্তী বাঁশজানি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সোলায়মান আলীর ২০১১ সালে বিবাহ হয়। বিয়ের ৩ মাসের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় শালিসের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে তালাক হয়। এর কিছুদিন পর অভিভাবকদের না জানিয়ে পিংকী খাতুন পাশ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সাইফুর রহমানের ছেলে রাসেল বাবু’র সাথে পালিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রি করে।

দেড় বছর ঘর সংসার করার পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় রাসেল বাবু। এসময় ৬ মাসের গর্ভবতী পিংকী খাতুন বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। সেখানে অবস্থানকালীন পিংকী খাতুনকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দেয়। পিংকী খাতুন রাজি না হওয়ায় বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতে গত ২০১১ সালের ২৭ মে দুপুরের দিকে স্ত্রীকে মুখে গামছা বেঁধে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে লাশ ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় রাসেল বাবু। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির অনুপস্থিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ আদেশ প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মুহা. ফকরুল ইসলাম।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, আসামি রাসেল বাবু হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পলাতক ছিল।
আরসিএন ২৪বিডি. কম,ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২১