সাধারণ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে আর যাদের দরকার তারাই আগে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।


বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২ দিকে আজিমপুরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে মানুষকে আমরা সেবা দিতে পেরেছি। যে কারণে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের মৃত্যু হার সবচেয়ে কম।

করোনায় সংক্রমণের হারও কম। করোনায় আমরা ভালো করে সেবা দিতে পেরেছি, যেটা ইউরোপ-আমেরিকাও পারেনি।

ইনশাল্লাহ ভ্যাকসিনও আমরা ভালোমত দিতে পারবো। আপনারা কোনরকম গুজবে কান দেবেন না।
আগে আমরা সাধারণ মানুষকে ভ্যাকসিন দেবো। যাদের দরকার তারা আগে পাবে ভ্যাকসিন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সুখবর হচ্ছে ভারত সরকার আমাদের যে ভ্যাকসিন দিচ্ছে তা এরই মধ্যে পৌঁছেছে।
ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি সেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবো। ভ্যাকসিনগুলো পাওয়ার পর আমরা স্টোরেজ করবো। স্টোরেজ থেকে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিতরণ করবো। প্রথমে কয়েকটা হাসপাতলে আমরা ভ্যাকসিন দেবো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা হাসপাতালের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে আমরা আপনাদের জানিয়ে দিতে পারবো।
ভ্যাকসিনেশনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন ভ্যাকসিনেশনের প্ল্যান এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কোনো ধরনের যেন সমস্যা না হয় সে জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা আছে। যে কমিটির প্রধান হলেন আমাদের মুখ্য সচিব।

এ কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। আমাদের পরিকল্পনা অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে এবং পরিকল্পনা প্রায় সমাপ্তের দিকে। আমাদের একটি অ্যাপ তৈরি হচ্ছে সেটাও শেষের পথে। আশা করছি, আমরা সঠিকভাবেই ভ্যাকসিন দিতে পারবো। যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি, আপনাদের সবার সহযোগিতায় করোনার ভ্যাকসিনও সঠিকভাবে দিতে পারবো সেই আশা করছি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) পরিচালক (অতিরিক্ত পরিচালক) সুশান্ত কুমার সাহা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- পরিবার পরিকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ সাহান আরা বানু, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এন এনায়েত হোসেন, এইচইডি প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান সারোয়ার প্রমুখ।

আরসিএন ২৪বিডি. কম , জানুয়ারি ২১, ২০২০