চীনের তৈরি টিকা নাকে স্প্রে করলে মুক্তি পাবে করোনা থেকে

9

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায় প্রথম চীন থেকে । আর পরে বিশ্ব জুড়ে মহামারীতে আকার ধারণ করে যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।


তবে এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে নাকে স্প্রে করার টিকা আনার পরিকল্পনা করছে চীন। যা ইঞ্জেকশনের পরিবর্তনে নাকে স্প্রে করতে হবে। ইতিমধ্যে এ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে, আলোচিত ওই টিকার প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে। এ সময় ১০০ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে তা প্রয়োগ করা হবে।

বেইজিংভিত্তিক একজন গবেষক গ্লোবাল টাইমসকে বলেছেন, ইনজেকশনের সঙ্গে তুলনা করলে নাকের স্প্রের টিকাটি দেওয়া সহজ। এটি ব্যাপক আকারে তৈরি করা ও ছড়িয়ে দেওয়া সহজ। এতে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনের অন্য টিকাগুলো তৈরিতে অন্য টিকা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

চীনের গ্রহণ করা প্রযুক্তিগুলো হচ্ছে লাইভ অ্যাটেনোঅ্যাটেড ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন, ইনঅ্যাকটিভেটেড ভ্যাকসিন, অ্যাডেনোভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন এবং ডিএনএ ও আরএনএ ভ্যাকসিন। এর মধ্যে ইনঅ্যাকটিভেটেড ভ্যাকসিন সবার আগে বাজারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে নাকের স্প্রে টিকাটিতে লাইভ অ্যাটেনোঅ্যাটেড ইনফ্লুয়েঞ্জা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের জাতীয় চিকিৎসাপণ্য প্রশাসন অনুমোদিত নাকের স্প্রের একমাত্র টিকা এটি। স্প্রে টিকাটি যৌথভাবে হংকং ও চীনের গবেষকেরা তৈরি করেন। এতে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়, শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয় ও বেইজিং ওয়ানতাই বায়োলজিক্যাল ফার্মেসির গবেষকরা রয়েছেন।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞানী ইউয়েন ওক ইয়ুং বলেন, এ টিকা শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের প্রাকৃতিক সংক্রমণের পথকে উদ্দীপ্ত করে প্রতিরোধক প্রতিক্রিয়া সক্রিয় করতে উৎসাহিত করে।

নাকের স্প্রে টিকা গ্রহীতাকে দুই ধরনের সুরক্ষা দিতে সক্ষম। একটি হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যটি করোনাভাইরাস। অর্থাৎ, নাকের স্প্রে ব্যবহার করে দুই সুবিধা পাওয়া লক্ষ্যে কাজ করছেন গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ৯ লাখ ৯ হাজার ৪৭৯ জন। ইতিমধ্যে ভয়াবহ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ৮১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৩ জন। সংক্রমিত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ৬৩ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। সেখানে মারা গেছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬৬ জন মানুষ।

গুগল নিউজ : রংপুর ক্রাইম নিউজ পড়তে ক্লিক করুন


আরসিএন ২৪বিডি.কম /১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট সময় : ৮:০৪ পিএম / জিএম এম