আজ থেকে ১১ দফা বিধি-নিষেধ, না মানলে জেল-জরিমানা

101

দেশে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ১১ দফার বিধি-নিষেধ। এসময় প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

আর বন্ধ থাকবে সভা-সমাবেশ। বাস-ট্রেন-লঞ্চে মাস্ক পরিধান ছাড়া চলাচল করা যাবে না। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এই ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১০ জানুয়ারি ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে মাস্ক না পরলে জরিমানাসহ গণপরিবহনে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খেতে হলে ভ্যাকসিন সনদ দেখাতে হবে। সংক্রমণ রোধে সব ধরনের সভা-সমাবেশ পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বুধবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি যাতে আমেরিকা ও ইউরোপের মতো না হয় সেজন্য ১১ দফা বিধি-নিষেধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব বিধি-নিষেধ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।’

এসব নির্দেশনা কেউ না মানলে তাকে জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

বিধি-নিষেধে রয়েছে :
১. দোকান, শপিং মল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা ভ্যাকসিন সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

৪. ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে ভ্যাকসিন সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টসমূহে ক্রু-দের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতে আসা ট্রাকের সঙ্গে কেবল চালক থাকতে পারবে, কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সনদধারী হতে হবে।

৭. বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সনদ প্রদর্শন ও র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে।

৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সকল মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৯. সর্বসাধারণের করোনার ভ্যাকসিন এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করবে।

১০. কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। এবং

১১. কোনো এলাকায় ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে করোনার সংক্রমণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। নমুনা পরীক্ষার মধ্যে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে ।


আরসিএন২৪বিডি। ১৩ জানুয়ারি ২০২২