করোনা ভাইরাস (COVID-19) মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন (৪২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ অবস্থান করছিল ৪২ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলারে, যা ছিলো অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ নতুন এ উচ্চতায় উঠেছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসেবে প্রায় সাড়ে দশ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। গত ২৯ অক্টোবর তা প্রথমবারের মতো ৪১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরেই রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

১০ বছর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে সেই রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে গত বছরের অক্টোবরে। চলতি বছরের ৩০ জুন সেই রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে ওঠে।

গত ৮ অক্টোবর ছাড়ায় ৪০ বিলিয়ন ডলার।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা ২০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা ২০১৯ সালের পুরো সময়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দুই দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে পণ্য রফতানি থেকে ১৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের এক শতাংশ বেশি।অন্যদিকে জুলাই- অক্টোবর এই চার মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ১৩ শতাংশ।

আরসিএন ২৪বিডি. কম / ১৫ ডিসেম্বর ২০২০অনলাইন আপডেট ৯:০০ পিএম