কবির চৌধুরী জয়

হাঁড়িভাঙা আম বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় আমের প্রজাতি। হাঁড়িভাঙা আমের নিবিড় পরিচর্যা চলছে বলে জানা গেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনেই বাজারে আসবে সুমিষ্ট এ আম বলে মনে করছেন আম ব্যবসায়ীরা।

অনেকেরই বাড়ির আশেপাশে বাগান গড়ে উঠেছে হাঁড়িভাঙা আমের ।

রংপুরের সৈয়দপুর ও পার্শ্ববর্তী রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার সড়কের পাশে ও অনেক স্থানে তৈরী হয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ের এসব বাগান বলে জানা গেছে । আম চাষিরা ধারণা করছেন , এ বছর হাঁড়িভাঙা আমের ফলন কম হতে পারে।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ধাপপাড়ার আম ব্যবসায়ী নূরুন্নবী সরদার ও সাগর সরদার হলো দুই ভাই।

এবার পৈত্রিক এক বিঘা জমিতে প্রায় পাঁচ শত আমের গাছ লাগিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত তিন বছর ধরে তারা এ বাগান থেকে আম সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে ।

আমচাষি নূরুন্নবী সরদার রংপুর ক্রাইম নিউজকে জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই তেমন বৃষ্টিপাত হয় নি তাই আমের মুকুল ঝরে পড়ে গেছে। যেটুকু আছে, সেগুলো খুব একটা বড় হতে পারেনি বলে জানান চাষিরা। অর্থাৎ হাঁড়িভাঙা আমের সাইজ কিছুটা হলেও ছোট হবে এবার বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে ‘ভাঙা হাঁড়িতে’ পত্তন হয়েছিল বলেই নাম হয়েছে এই আমের ‘হাঁড়িভাঙা’ আম। ‘ভাঙা হাঁড়ি’র মধ্যে জন্ম বলে এ জাতের আমের নাম হাঁড়িভাঙা বলে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করে উত্তরবঙ্গ সহ পুরো বাংলাদেশে। জানা গেছে হাঁড়িভাঙা আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায় বাজারে। হাঁড়িভাঙা আম দেখতে সাধারণত কিছুটা লম্বাটে বা গোলাকৃতির এবং কালচে সবুজ রঙের হয়ে থাকে। পাকলে কিছুটা লালচে রঙ ধারণ করে এই আম। প্রতিটি আমের ওজন দুইশ’ থেকে চারশ’ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে বলে জানান আম ব্যবসায়ীরা।

ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আম চাষে বিগত তিন দশক ধরে আর্থিক সফলতা এসেছে এ জনপদের হাজার হাজার কৃষক পরিবারে।

কিন্তু এ বছর করোনাকালে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ লক্ষ করা গেছে আমচাষিদের কপালে।

বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবাইদুর রহমান রংপুর ক্রাইম নিউজকে বলেন, শুধু খড়া নয়, মাটিতে খাদ্য ঘাটতি হলেও আম ঝরতে পারে এবার। তবে চাষিদের বাগানে সেচ দেওয়াসহ অনুখাদ্য প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বার বার,না হলে ঝরে যেতে পারে।

আরসিএন ২৪ বিডি.কম / ২০ মে ২০২১
কবির চৌধুরী জয়